বাংলা চলচ্চিত্রে ফেলু মিত্তির

২১

সবুজ পাহাড়ের রাজা | চলচ্চিত্র

০৭/১২/২০১১

প্রদোষ চন্দ্র মিত্তির ওরফে আমাদের ফেলুদা সত্যজিৎ রায়ের অসাধারণ সৃষ্টি।

ছোটবেলায় যখন ফেলুদার বই পড়তাম তখন মনে হতো ফেলুদার কাহিনীগুলো সব সত্যি। সেসময় খুব ইচ্ছে হতো কোলকাতার বালিগন্জের রজনী সেন রোডের বাসায় গিয়ে ফেলুদার সাথে দেখা করতে; দু'একবার বাবার কাছে বায়নাও করেছি নিয়ে যাবার জন্য। কেন জানি সে সময় তোপসেকে খুব হিংসে হতো।

আমার সেই ছোটবেলার একশান হিরো ফেলুদাকে নিয়ে চলচ্চিত্রও কম হয়নি; গুণে গুণে সাতটি চলচ্চিত্র।

সত্যজিৎ রায় নিজেই দু'টি চলচ্চিত্র নিমার্ণ করেন-সোনার কেল্লা (১৯৭৪) আর জয় বাবা ফেলুনাথ (১৯৭৮); দুটো চলচ্চিত্রেই ফেলুদার ভূমিকায় ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, তোপসের ভূমিকায় ছিল সিদ্ধার্থ চ্যাটার্জী আর সন্তোষ দত্ত ছিলেন জটায়ুর ভূমিকায়। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় যথার্থই ফেলুদার চরিত্র রূপায়ণ করেছিলেন; এ ব্যাপারে সন্দেহের কোন অবকাশই নেই। সিদ্ধার্থ চ্যাটার্জী আর সন্তোষ দত্তের অভিনয়ও আমার কাছে প্রশ্নাতীত মনে হয়েছে।

সত্যজিৎ রায়ের পুত্র সন্দীপ রায় ফেলু মিত্তিরকে নিয়ে আরও পাঁচটি চলচ্চিত্র নিমার্ণ করেন-বাক্স রহস্য (২০০১), বোম্বাইয়ের বোম্বেটে (২০০৩), কৈলাসে কেলেঙ্কারী (২০০৭), টিনটোরেটর যীশু (২০০৮) এবং গোরস্থানে সাবধান (২০১০)।
বাক্স রহস্য (২০০১) টেলিছবি হলেও বাকিগুলো সবই বড় পর্দার চলচ্চিত্র। এই পাঁচটি চলচ্চিত্রেই ফেলুদার ভূমিকায় অভিনয় করেন সব্যসাচী চক্রবর্তী। সব্যসাচী চক্রবর্তী ফেলুদার চরিত্রে খুব সাবলীল অভিনয় করলেও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এখনো আমার কাছে আদর্শ ফেলুদা। বাক্স রহস্য (২০০১)-এ তোপসের ভূমিকায় ছিল শাশ্বত চ্যাটার্জী আর জটায়ুর ভূমিকায় ছিলেন রবি ঘোষ। রবি ঘোষ জটায়ুর চরিত্রে অভিনয়ে উৎরে গেলেও তোপসের চরিত্রে শাশ্বত চ্যাটার্জীর কাতু-কাতু অভিনয় প্রশ্নবিদ্ধ।
বোম্বাইয়ের বোম্বেটে (২০০৩), কৈলাসে কেলেঙ্কারী (২০০৭) এবং টিনটোরেটর যীশু (২০০৮) এই তিনটি চলচ্চিত্রে তোপসের ভূমিকায় ছিল পরমব্রত চ্যাটার্জী আর জটায়ুর ভূমিকায় বিভু ভট্টাচার্য। পরমব্রত চ্যাটার্জী-বিভু ভটাচার্যের অভিনয় বেশ সাবলীল হলেও সিদ্ধার্থ চ্যাটার্জী আর সন্তোষ দত্ত এখনো কিংবদন্তী। গোরস্থানে সাবধান (২০১০)-এ জটায়ুর ভূমিকায় বিভু ভট্টাচার্য অভিনয় করেন।
গোরস্থানে সাবধান (২০১০)-এ তোপসের ভূমিকায় অভিনয় করে সাহেব ভট্টাচার্য। তোপসের চরিত্র রূপায়ণকারীদের তুলনা করলে সিদ্ধার্থ চ্যাটার্জী, পরমব্রত চ্যাটার্জী, শাশ্বত চ্যাটার্জী আর সাহেব ভট্টাচার্যের মধ্যে সিদ্ধার্থ চ্যাটার্জীর অভিনয় অসাধারণ।

তবে, এটা স্বীকার করতেই হয় যে, ফেলুদার উপর তৈরী করা সাতটি চলচ্চিত্রের প্রত্যেকটিই বাংলা চলচ্চিত্রের সম্পদ।

সোনার কেল্লা (১৯৭৪)



পরিচালক: সত্যজিৎ রায়।

কাহিনী সংক্ষেপ:

সুধীর ধরের ছয় বছরের ছেলে "জাতিস্মর" মুকুলকে কেন্দ্র করে এর কাহিনী গড়ে উঠে। মুকুল পূর্বজন্মের স্মৃতি থেকে সোনার কেল্লার ছবি এঁকে মা-বাবাকে দেখায়। প্যারাসাইকলজিস্ট ডক্টর হাজরা মুকুলকে পরীক্ষা করে মুকুলের সঙ্গে রাজস্থানে সোনার কেল্লার খোঁজে যান। এদিকে বর্মন আর বোস নামের দুজন দুষ্কৃতকারী মুকুল পূর্বজন্মের স্মৃতি ব্যবহার করে সোনার কেল্লার গুপ্তধনের খোঁজ বের করতে চায়। ফেলু মিত্তিরের দায়িত্ব পড়ে মুকুলকে দেখভাল করার। রোমাঞ্চকর পরিণতির দিকে এগোয় কাহিনী......

জয় বাবা ফেলুনাথ (১৯৭৮)



পরিচালক: সত্যজিৎ রায়।

কাহিনী সংক্ষেপ:

মূল্যবান গণেশ মূর্তির চুরিকে কেন্দ্র করে কাহিনী গড়ে উঠে। মূল্যবান মূর্তির চোরাকারবারীর ব্যবসায়ী ভয়ংকর মগনলাল মেঘরাজের মুখোমুখি হতে হয় ফেলুদাকে.....

বাক্স রহস্য (২০০১)


পরিচালক: সন্দীপ রায়।

কাহিনী সংক্ষেপ:

ট্রেনে ব্যবসায়ী দীননাথ লাহিড়ীর ব্যাগ কামরার অন্য কোন যাত্রীর সাথে বদল হয়ে যায়। সামান্য দুর্ঘটনা থেকে শুরু হলেও বড় সড় ব্যাপার ঘটে যায় শেষ পর্যন্ত................

বোম্বাইয়ের বোম্বেটে (২০০৩)


পরিচালক: সন্দীপ রায়।

কাহিনী সংক্ষেপ:

লালমোহন গাঙ্গুলী ওরফে জটায়ুর রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজের একটি উপন্যাসের চলচ্চিত্রায়ণ দেখতে ফেলুদা-তোপসে-জটায়ু বোম্বে যান আর এখানে জড়িয়ে পড়েন বোম্বে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ফ্যাসাদে। কাহিনী এগোতে থাকে...দর্শকদের উত্তেজনাও বাড়তে থাকে।

কৈলাসে কেলেঙ্কারী (২০০৭)



পরিচালক: সন্দীপ রায়।

কাহিনী সংক্ষেপ:

মূল্যবান প্রাচীন মূর্তি পাচারকারী একটি গ্যাং এর পিছু নেন আমাদের ফেলু মিত্তির...প্রাচীন নগরী কৈলাসে ঘটে রোমাঞ্চকর ঘটনা....

টিনটোরেটর যীশু (২০০৮)



পরিচালক: সন্দীপ রায়।

কাহিনী সংক্ষেপ:
নিয়োগী পরিবারের কাছে আছে ইতালিয়ান চিত্রকর জ্যাঁকোপো কমিন টিনটোরেটরের আঁকা মহা মূল্যবান যীশুর একটি পেইন্টিং। চুরি হয় পেইন্টিংটি.....অনুসন্ধা ে বের হন ফেলুদা....

গোরস্থানে সাবধান (২০১০)


পরিচালক: সন্দীপ রায়।

কাহিনী সংক্ষেপ:

কলকাতার ফিরিঙ্গি গোরস্থানে থমাস গডউইনের কবর থেকে কাহিনীর সূত্রপাত হয়। অনুসন্ধানে নামেন ফেলুদা। ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন ফেলুদা......পরিণতি রোমাঞ্চকর......

.....জয় ফেলু মিত্তিরের জয়.....
.......বাঙালীর মনে ফেলুদা চিরভাস্মর হয়ে থাকুক........

যেতে যেতে ফেলুদার গান শুনে যায়...

[youtube]rJQFmHb9-8k[youtube/]

সবুজ পাহাড়ের রাজা

লেখক

এই লোটাকম্বলধারী এখনও নিজের সম্পর্কে কিছু জানাতে নারাজ।

জনগণ যা বলেন

আপনি যা বলেন

[youtube]v=rJQFmHb9-8k[youtube/]

[youtube]http://www.youtube.com/watch?v=rJQFmHb9-8k[youtube/]

উহঁহু! গানের লিংকটা আর লিখতে পারলাম না।

গানের লিংক:

http://www.youtube.com/watch?v=rJQFmHb9-8k

[youtube/] না লিখে [/youtube] লিখুন।

Bimbisar মন্তব্য3 মাস আগে

প্রফেসর শন্কু কেউ কি করবে?

আইডিয়াটা মন্দ নয়। সন্দীপ রায়কে দিলে হয়।

আমার তো মনে হয় খোলাখুলি প্রতিযোগিতা হোক। বিচারকদের প্যানেলে সন্দীপ রায়ের সাথে অন্যান্য সাহিত্যিক আর পরিচালকরাও থাকুন। বিশ্বব্যাপী শঙ্কুভক্তরা নিজেদের মত একটা গপ্প বেছে নিয়ে চিত্রনাট্য লিখে পাঠান। তারপর যেটি বিবেচিত হল, সেটা নিয়ে ছবি হোক। কি মনে হয়?

আপনাকে রাজাবাবু সম্বোধন করছি, আশা করি কিছু মনে করবেন না। লেখাটিতে কিছু মূল্যবান সালের উল্লেখ করবার জন্য ধন্যবাদ। যদিও সমস্ত তথ্য প্রশ্নাতীত নয়। ফেলুদাকে নিয়ে সন্দীপ রায় পাঁচটি গল্প ও তিরিশ পর্বের একটি টেলিসিরিয়াল করেছিলেন। সালটা ওই ২০০১-ই, যার প্রথম গল্প ছিল বাক্স রহস্য। বাকি গল্পগুলি কি ছিল বা তাদের সারসংক্ষেপ লিখে জায়গা ভরাবো না। কারন এ তথ্যগুলি যারা জানেন না তারা নিজেরা জেনে নিলে বেশি মজা পাবেন। বাক্স রহস্য হয়তো পরে ফিল্ম হিসেবে রিলিজ করেছে, আমি জানি না। কিন্তু ফেলুদা-কে নিয়ে আরো ছবি হয়েছে। ইটিভি বাংলার জন্য রামোজী রাওএর প্রজোযনায় নির্মিত হয়েছে "ডঃ মুন্সীর ডায়রী"।

আর মানিকবাবু জীবিত থাকাকালীন ন্যাশনাল টেলিভিশনের জন্য হিচককের 'আ্যলফ্রেড হিচকক প্রেজেন্টস'-এর আদলে তৈরী হয় সত্যজিত রায় প্রেজেন্টস। তাতে ফেলুদাকে নিয়েও একটি গল্প হয়। ফেলুদা হয়েছিলেন শশী কাপুর আর জটায়ু মোহন আগাসে। অবিশ্যি হিন্দিতে। উপরোক্ত দুটি কাজের-ই পরিচালক ছিলেন সন্দীপ রায়।

মনে হয় না সন্দীপবাবু না আমরা, কেউই নতুন তোপসেদের নিয়ে পরীক্ষানীরিক্ষা ভালো চোখে নিচ্ছি না। তোপসের ভূমিকাটি আরো সক্রীয় করতে চেষ্টার ত্রুটি রাখছেন না রায় জুনিয়র; কিন্তু আমরা তোপসেকে নিছক ন্যারেটর হিসেবে পড়ে অভ্যস্ত, তাই তার কথাবার্তা চলাফেরা সবই কেমন পাকামো ঠেকছে, অন্ততঃ আমার কাছে। ওয়াটসনের আদলে তো অজিত-ও তৈরী হয়েছেন, কিন্তু তারা দুজনেই পূর্নবয়স্ক, এদিকে তোপসে আমাদের কাছে সেই ষাটের দশকের টিনেজার খোকা। তাই তাকে একটু সপ্রতিভ দেখলে আমাদের নাক সিঁটকোয়। তাই সন্দীপ রায় যতই চেষ্টা করুন না কেন, তার চেষ্টা কোন কাজে দিচ্ছেনা। তার ফেলুদা-ফিল্মগুলি ধীরে ধীরে দর্শক হারাচ্ছে। এদিকে জটায়ুর স্টক-ও ফুরিয়ে এল। ফেলুদা-র মিথ যদি নিতান্ত-ই ভাঙতে না চান সন্দীপবাবু, তাহলে ফেলুদাকে নিয়ে আর নাড়াঘাটা না করলেই ভালো হয়।

পুঃ আমি নিতান্ত রিআ্যকশনারী। মতামত সম্পূর্ন ব্যাক্তিগত। এইচ জি ওয়েলস বা জুল ভার্ন এর গপ্প-ও তো এ-যুগের পটভুমিকায় বানানো হচ্ছে, তাতে স্মার্টনেসের বিন্দুমাত্র অভাব নেই। তবে ফেলুদা কি দোষ করল? নতুন কাজ চলুক। তাতে আমাদের ফ্যান্টাসি মোটে ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা।

অত্রি,
এখানে শুধু বড় পর্দায় মুক্তি পাওয়া ফেলুদার বাংলা চলচ্চিত্রগুলো নিয়ে লিখলাম।

ভালো লাগল আপনার এই পোস্ট। আপনার সাথে আমিও একমত। ফেলুদা হিসাবে সৌমিত্র আমার কাছে আদর্শ।

ধন্যবাদ।
ফেলুদা বলতে আমার সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মুথ থানায় মনে পড়ে।

হমমমমম

এতোদিনে প্রকাশ্যে আরেক ফেলুদা পাগল পেয়ে খুব ভালো লাগছে। তবে আজকের ডেটে সন্দীপ রায় মহাশয় পাঁচটি নয়, ছটি ফেলুদার ছবি করেছেন, বড় পর্দায়। লেটেস্টটা হলো রয়েল বেংগল রহস্য। ফেলুদা সব্যসাচী, আর জটায়ু বিভু ভট্টাচার্‍্য্য। তোপশে আমি সিওর নই। দেখা হয় নি। দেখবো।

বাকি সব কটা সিনেমার টাইটেল পেজ দেবার জন্যে ধন্যবাদ। নাটক হিসেবে যেটা হয়েছিলো তার নাম ডাঃ নীহার মুন্সীর ডায়েরি। সেই ভাবে পটল বাবু ফিল্ম স্টার (অ ফেলুদা) নাটকও হয়েছে।

ফেলুদা এখন কিছুদিন বন্ধ থাকুক, যেমন গুপী-বাঘা আছে। আমাদের সকলকে আবার নতুন করে অপেক্ষা করতে হবে। আশা করি সে অপেক্ষার ফসল আরেকটা সোনার কেল্লা এনে দেবে।


দয়া করে কেউ কি ফেলুদা ৩০ টিভি সেরিয়ালের লিঙ্ক গুল দিতে পারবেন বা কি কি গল্প নিয়ে বানানো হইয়ে ছিল?

পেলে অবশ্যই শেয়ার করবো।

চিচিং ফাঁক