গণেশ বলল, “তোমাদের
সেক্রেটারি কে?” লোকটি
বলল, “যে-ই হোক, বৃষ্টি
হলে পাঁচ টাকা এক্সট্রা
লাগবে”। গণেশের গলাটা
বিরক্তিতে তেতো হয়ে
গেল। রিক্সাওয়ালা,
অটোরিক্সাওয়ালা সবাই
এক্সট্রা চায়; টাকার
তো দল বদল হয় না, তাই
সেক্রেটারি, ইউনিয়ন
কিংবা পুলিশ, রুলিং
পার্টি বদলালেও এদের
চরিত্র বদলায় না;
এক্সট্রা টাকার ভাগ যে
সবার। কিন্তু এতো
এক্সট্রা তো আর মা
দুগ্গার হিসেবে থাকে
না; তিনি পথখরচ, খাইখরচ
দেন মান্ধাতা আমলের
নিক্তিতে। এদিকে ঘাটতি
বাজেটের ব্যাপক কাটতি,
বাজার সবসময়ই আগুন,
হয় ক্ষরা বলে আগুন, নয়
বৃষ্টি বলে আগুন; যথাযথ
অগ্নি নির্বাপণ
ব্যবস্থা নেই তাই
অনির্বাণ খাণ্ডব দহন।
সেই আঁচে গণেশও
অটোওয়ালাকে ভেঙচে ওঠে
, “খালপাড় তো উপছে গেল
বলে, আর এক্সট্রা রাখবে
কোথায়, বাপধন?” প্রায়
গুঁতিয়ে দিয়ে
গাঁকগাঁক করে চলে গেল
লোকটি অটোরিক্সা
নিয়ে।
গজগজ করতে করতে হাঁটা
ছাড়া কোনো উপায় থাকে
না গণেশের। এমনিতে মনে
একটু অনুতাপ হচ্ছে;
বেচারা শিবের জীব
অটোওয়ালা। তাকে
খালপাড় নিয়ে হ্যাটা
দেওয়াটা ঠিক
দেবতাসুলভ কাজ হলো না।
জানতে পারলে মা দুগ্গা
দুটো মিল বন্ধ করে
দেবেন বোধহয়। তবে সে
সম্ভাবনা ক্ষীণ।
দুবেলার খাবার বন্ধ
করার আগে তাঁকে গণেশের
অনাচারের খবর পেতে হবে।
যতদিন যাচ্ছে, মানুষের
কোমরে, মুঠোয় মোবাইল
ফোন থইথই করছে, তত লোকে
বকে বকে বকখালি হয়ে
যাচ্ছে আর ঠাকুরদেবতার
কাছে নালিশ-টালিশ করার
সু্যোগ পাচ্ছে না।
তাছাড়া যা হলো সেটা
জানতে পারলে তিনিও
তেলেবেগুনে জ্বলে
উঠবেন। বলবেন, “কেন তুই
বলতে পারলি নি, তুই শিব
ঠাউর আর দুগ্গা
ঠাউরুনের ব্যাটা! তোর
কাছ থে এক্ছটেরা কি
ভাড়াই নেওয়া উচিৎ নয়
সে ড্যাকরার”।
ভাবনার ফাঁক গলে ফোঁস
করে একটা দীর্ঘশ্বাস
বেরিয়ে এলো গণেশের
শুঁড় থেকে। পায়ে একটু
ব্যাথা করছে। উল্টো
ডাঙ্গা থেকে কোয়ালিটি
রাস্তা খুব বেশি নয়
কিন্তু পঞ্চাশ কেজির
ভুঁড়ি নিয়ে দু-আড়াই
কিলোমিটার হাঁটা তো
মুখের কথা নয়। এদিকে
কলকাতায় তো
যাতায়াতের দুটোই
মাত্র উপায়, অটো আর
হাঁটো। রাত আটটায়
গণেশের দুন এক্সপ্রেস
ধরার কথা ছিল হাওড়া
থেকে; কৈলাসে ফেরবার
জন্য। এদিকে ভিআইপির
খাজানা শাড়ি প্রণামী
দিতে বাজালো সন্ধে
সাতটা; তখন সব রাস্তা
জ্যামে জমাট।
উল্টোডাঙা থেকে অটো
চেপে শোভাবাজার গিয়ে,
সেখান থেকে লঞ্চ ধরে
হাওড়া যাওয়া ছাড়া আর
কোনো উপায় ছিল না।
এমনিতে ওই রুটে অটো
ভাড়া দিনে রাতে ওঠা
পড়া করে, তায় ভাদ্র
মাসের অকাল বৃষ্টিতে
পাঁচ টাকা এক্সট্রার
চাপে অটো চাপাই গেলো
না। সুতরাং দুন
এক্সপ্রেস ধরে কৈলাস
ফেরার সম্ভাবনা
মিলিয়ে গেলো। এখন
টিকিট ক্যান্সেল করতে
হবে কোয়ালিটির সাইবার
কাফে থেকে। ওখান থেকেই
কার্ত্তিককে ইমেল করতে
হবে অনলাইন কিছু টাকা
পাঠানোর জন্য। তারপর
আবার একাত্তর নম্বর
বাসে চেপে ঝিমোতে
ঝিমোতে শিয়ালদার
হোটেলে গিয়ে দিন
সাতেকের জন্য ঢুকে পরতে
হবে। কার্ত্তিক তো
কলকাতার বাইরের কোনো
শহর থেকে টাকা পাঠাবে,
ফলে টাকা ক্রেডিট হতে
দিন সাতেক লাগবেই।
তাহলে হোটেলের ভাড়া,
কৈলাসে টেলিগ্রামের
খরচ, সাতদিনের বাকি খরচ
ধরলে পকেটের তিরিশ
টাকার ওপর কতো আর চাইতে
হবে
হিসেব করতে করতে নতুন
ফ্লাই ওভারের নিচের
চায়ের দোকানে একটা
বেঞ্চে বসে পড়ল গণেশ।
এক ভাঁড় চা আর একটা
ল্যাড়ো বিস্কুট খেতে
খেতে, একটু জিরোতে
জিরোতে ভাবছে
কার্ত্তিকের থেকে টাকা
আসা অবধি খাওয়া জুটবে
কি করে। দিনকে দিন
হচ্ছে কি যে মানুষের!
ঠাকুর-দেবতায় আর মোটে
ভক্তি নেই। কোনকালে
আদিখ্যেতা করে কয়েক
গ্যালন দুধ গিলিয়েছিল,
আর এখন? পয়লা বোশেখ আর
গণেশ চতুর্থী ছাড়া
গণেশকে কেউ আর মনেই করে
না। ব্যবসায় টালমাটাল
কোথায় ব্যাটা
সিদ্ধিধাতাকে ডাকবি তা
না কোত্থেকে গলায় টাই
আর বকলেস জড়াজড়ি
এমবিএ-পিজিডিবিএম ধরে
আনে। অমন যে মা দুগ্গা
তাঁকেও কি আর তেমন আদর
যত্ন করে? মায়ের নামে
বাঁজখাই প্যাণ্ডেল,
মণ্ডপসজ্জা, নাচা-গানা,
আগণ্ডা কম্পিটিশন –
শাঁখ বাজানো্র, ঢাক
বাজানোর, বাতি
জ্বালানোর, আগুন
নেভানোর, – পয়সার
ঝনঝনানি, ওড়াউড়ি,
স্টলে স্টলে, শপিং মলে।
আর এদিকে মায়ের
প্রণামীর বেলায়
যেহেতু দরাদরি নেই
সেহেতু খাঁ খাঁ;
বারোয়ারি আর ইভেন্ট
ম্যানেজারের পকেট ফুলে
গণেশের ভুঁড়ির থেকেও
বড়ো। মানুষগুলো বুঝেও
দেখে না যে শুধু
যাতায়াতের খরচ দিলে
পুরো বছর ভুতের
গুষ্টিকে প্রতিপালন
করা সম্ভব হয় না।
চায়ের দাম মিটিয়ে
সাইবার কাফের রাস্তা
ধরে গণেশ। এদিকের কোনো
বাড়িই আর শুধু
বসতবাড়ি নেই। আপিস,
দোকান, শোরুম, ক্লাসরুম,
স্পা, পারলার,
মেসবাড়ি।
গ্যারেজটুকুও লোকে বাদ
রাখে নি। যার গ্যারেজে
দোকান নেই, নিদেনপক্ষে
ভাড়াটে আছে। গাড়িটা
রাখে গেট আর গ্যরেজের
মাঝের গলিতে, নয়তো
রাস্তায়। হাঁটাও
মুশকিল! ফুটপাথ বলে
কিছু ছিল, এখন হয় বাগান
সেখানে, নয় সবুজায়নের
হিড়িকে মেহগনি
ছাতিমের জবরদখল। এসব
দেখে মনে হয় যে শিব
ঠাকুর যদি একটা গ্যারেজ
মেলানো বাড়ি বানাতেন
তো ভূতগুলো এমন ঘাড়ে
চাপত না; ওগুলোকে
গ্যারেজে পুরে ভাড়া
চাইলেই সব নাচন বন্ধ
হয়ে যেত; ভূতেদের থেকে
ভাড়া নিতে শিবদূর্গার
অসুবিধে থাকলে
মহিষাসুরকে তো ভাড়াটে
রাখাই যেত; ঘরে বসে
রোজগার হলে কী আর বাপের
হাততোলা ছেলে হয়ে
থাকায় দুঃখু ছিল? তবুও
কলকাতা এলেই বুকটা হুহু
করে। কদিন পরে হাওড়া
থেকে কলকাতা মেট্রো
চলবে গড়গড়িয়ে, সিজন
টিকিটেই সব খরচ পুষিয়ে
যাবে। তবে স্টেশন থেকে
বেরিয়ে সেই হাঁটতেই
হবে। তখন নিশ্চয়ই
রিক্সা, অটোরিক্সার
রাস্তা কমে যাবে বলে
এক্সট্রার পরিমাণ,
উপদ্রব দুই-ই বেড়ে
যাবে। শিব ঠাকুর কৈলাসে
না বাড়ি করে,
রাজারহাটে নাহোক,
বসিরহাটে তো করতে
পারতেন বাড়িটা। তাহলে
অন্তত ঠিক সময়ে ঠিকঠাক
লেখাপড়া করে একটা যা
হোক পোর্টফোলিও
ম্যানেজারের কাজ করা
যেত। এই এতো রাস্তা
হেঁটে বেড়াতেও হতো না।
আর সাইবার কাফের
লাগোয়া রেস্তোরাঁর
এগরোল-মোগলাইয়ের গন্ধ
থেকে পেটের ছুঁচোটাকে
আড়াল করার জন্য এমন
নাকে হাতচাপা দিয়ে
থাকতেও হতো না। অথচ এসব
কথা মা দুগ্গাকে বললে
চিড়বিড়িয়ে উঠবেন,
“ধক থাকলে সব জায়গা
থেকেই হয়। বাকি তিনটে
তো বুড়ো বাপ-মাকে
দেখাশোনার দোহাই পাড়ে
না। যে যার মতো গুছিয়ে
নিয়েছে”।
সত্যি কথা। সরস্বতী
বয়সে সবার ছোট। কিন্তু
প্রথমবার পুজো নিতে
আমেরিকায় গিয়ে সে আর
ফিরতে চাইল না।
মেয়েটার মাথাটা
পরিষ্কার। ফ্যাট ফ্যাট
করে পরীক্ষা পাশ দিল আর
চলে গেল সে দেশে। এখন তো
ওখানেই বসবাস।
বচ্ছরকার দিনে হুশ করে
আসে আবার চলে যায়। সে
দেশে ওর খুব কদর কিনা।
তখন যদি সরস্বতীকে
হ্যাটা না দিয়ে ওর
ল্যাজ ধরে চলে যেত গণেশ,
তাহলে এ্যাদ্দিনে
গণেশেরও কদর সবাই বুঝত।
একে তো সরস্বতী বলে যে
সেখানে মানুষের
ঠাকুর-দেবতায় খুব
বিশ্বাস, এখনও; তায়
ব্যাটাদের গণেশ উল্টে
উল্লাট খাবি খাচ্ছে
এখন। এই সময় ওদেশে
থাকলে গণেশের নিশ্চয়ই
একটা হিল্লে হয়ে যেত
এ্যাদ্দিনে।
তবে লক্ষী এসব কথা মোটে
শুনবে না। সরস্বতীর
সঙ্গে ওর কোনো দিনই
বনিবনা নেই। তায় এখন
চার ভাইবোনের মধ্যে ওর
রোজগারই সবচেয়ে বেশি।
কৈলাসে ফোন করলেই মা
দুগ্গাকে বলে, “কি গো,
তোমার ছোটো মেয়েকে
টাকা পাঠাতে হবে নাকি এ
মাসে? লাগলে বোলো”। মা
দুগ্গা ইন্টারনেটের
খবর রাখেন না। তাঁর
কাছে আধুনিক টেকনোলজি
মানে দুটোর বদলে দুশোটা
টিভি চ্যানেল। তার ওপর
খবরের চ্যানেল তিনি
মোটে দেখেন না। তিনি
শুধু মাতা অম্বা বা
শেরোওয়ালি মা, বা
বৈষ্ণোদেবী আখ্যান
নির্ভর মেগা সিরিয়াল
দেখেন। মানে নিজের
জয়গান ছাড়া আন্নার
কান্না কিংবা রামদেবের
শ্বাসলীলার হাঁসফাঁস
শব্দ কিছুই তাঁর কানে
পৌঁছয় না। ফলে সরস্বতী
ফোন করলে শঙ্কিত গলায়
জানতে চান, “হ্যাঁ রে
সরস্বতী, কেমন আছিস মা?
গণ্শা সেদিন পিকাসা না
কোথায় তোর রাজহাঁসের
পিঠে চেপে ওড়ার ছবি
দেখাল, কী রোগা হয়ে
গেছিস! শুনেছি ওদেশে
গেলে লোকে হাতির মতো
মোটা হয়ে হার্টের রোগে
মরে যায়, আর তুই অমন
ফ্যাকাশে, ফিনফিনে হয়ে
যাচ্ছি্স দিনকে দিন!
খাওয়া দাওয়া ঠিকঠাক
পাচ্ছিস তো? লক্ষী
বলছিল তোদের ওখানে নাকি
লোকেদের সব কাজ নেই...
পয়সাকড়ি কিছু লাগে তো
বল... আমি না হয় লক্ষীর
থেকে নিয়েই তোকে দেব...”
সরস্বতীর ঝাঁঝালো
জবাবটা কৈলাস শুদ্ধু
সব্বাই শুনতে পায়,
কারণ মা দুগ্গা
রিসিভারটা কানে
লাগিয়ে রাখতে পারেন না
যখন খ্যান খ্যান করে
সরস্বতী বলে, “তোমার
লক্ষীকে বলে দিও,
রেনমিনবি কিংবা রুপির
রাজা হতে দু দশক দেরি
আছে, তদ্দিনে হোয়াং হো
অনেক কান্না কাঁদাবে,
কলকাতা লণ্ডন না হোক
ভেনিস হয়ে যাবে,
কলোরাডো গ্র্যান্ড
ক্যানিয়নকে আরও গভীরে
খুঁড়বে। লক্ষীকে বলো
তার আগে ভেগাসটা ঘুরে
যেতে... এখানে তো ভুতের
ভরসায় সংসার চলে না,
নিজেকেই নড়ে চড়ে সব
করে নিতে হয়,
খাওয়া-দাওয়া
বেছে-বুছে করলে অতো
হার্টের অসুখ করে
না...”।
সরস্বতীর থেকে পরে হলেও
লক্ষী সময়মতো বুঝে
গিয়েছিল যে
শিব-দুগ্গার ভরসায়
বেশি দিন থাকা যাবে না।
তার ওপর ওর স্বামীটাও
নানা অবতারে কতশত
গোপিনীর সাথে
ইন্টু-পিন্টু লীলায়
জব্বর কনফিউসন করে
রেখেছে। তাই নিজের
দিকটা বুঝে লক্ষী একটা
বিপিও-তে অপেরেশনস
ম্যানেজার হয়ে ঢুকে
পড়েছিল। তারপর থেকে
চিনে ভারতে লক্ষীকে
নিয়ে বেদম টানাটানি।
মেয়েটা আজ
ব্যাঙ্গালোরে তো কাল
বেজিং-য়ে, পরশু
নয়ডাতে তো তরশু
নানজিং-য়ে, তারপর দিন
মুম্বাইতে তো তারপর দিন
সাংহাইতে, একসপ্তাহ
গুড়গাঁওতে তো অন্য
সপ্তাহ গুয়াংঝুতে।
পুষ্যি পেঁচা ছাড়া
পিছুটান কিছু নেই। তাই
সে শহর থেকে শহরে উড়ে
শিব ঠাকুরের ভুত পোষার
জোগাড় দিয়ে যাচ্ছে।
তাই তো সে সবার
প্রিয়জন।
এইবার সাইবার কাফের
লাইন ফাঁকা পেতে গণেশ
একটা টুল পেতে বসে
পড়ল। কপাল করে
কার্ত্তিককে ফেসবুকে
অনলাইন পেয়েও গেল।
ছেলেটা যতটা গুণ্ডা
স্বভাবের, ততটাই
ক্যাসানোভা, চেহারার
গুণে। সন্ধেবেলা সে
সাধারণতঃ ডিস্কোথেক,
রেস্তোরাঁ, স্পা কিংবা
কোনো ট্রাইবাল ভিলেজে,
জঙ্গলে থাকে নতুন নতুন
বান্ধবী পটাতে। লক্ষীর
রোজগারের অনেকটা
দুগ্গার হাত দিয়ে
যায় কার্ত্তিকের
খরচায়। বছর দশেক ধরে
বিভিন্ন
ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের
খাতায় ব্যাটা ছাত্র
হয়ে আছে। এদিকে
পড়াশোনা সরস্বতীর
ডিপার্টমেন্ট। তাই তার
হস্টেলের ঘরে তালা।
যেখানে ঘুম ভাঙে সেখান
থেকে জিমে যায়। তারপর
জুস বারে যায়। তারপর
হস্টেলে গিয়ে চান
সেরে, বডি স্প্রে
হেয়ার জেল চড়িয়ে বের
হয় বান্ধবী সন্ধানে।
তবে এসব থেকে বেরিয়ে
টাইম পাস করতে কিংবা
এসব টাইম পাস থেকে
বেরিয়ে কাজের মতো কাজও
সে করে মাঝে মাঝে।
রোমিং-য়ে থাকে তো, তাই
ফোনও ধরে না সে সব
সময়ে। তখন অবশ্য
দুগ্গা মা খুব খুশি
হন। কারণ এ ছেলে তো যে সে
ছেলে নয়, দেবসেনাপতি।
দেবতারা আর যুদ্ধ করবে
কি, শিব ঠাকুরের পরিবার
বাদে সব তো প্রায় উপেই
গেছে দেশ থেকে। মানুষেও
তেমন যুদ্ধ করে না
আজকাল। কার্ত্তিক বলে,
“নেকুপুশুমুনু সব, বগলে
কাতুকুতু দিলে এক্ষুণি
লাঠি সড়কি নিয়ে খিমচা
খিমচি করবে, মুখে বলে
যুদ্ধু করা ছেড়ে
দিয়েছি...” তো মাঝে মাঝে
বনে, জঙ্গলে,
গ্রামাঞ্চলে গিয়ে
কাতুকুতু দেওয়ার
কাজটা করে কার্ত্তিক।
এতে তার জন্ম সার্থক
হয়, আর নিজের বাধানো
যুদ্ধে সেনাপতিত্ব করে
কিছু নগদ টাকাপয়সা
রোজগারও হয়। ফলে
দুগ্গা মাও শান্তি পান
একটু। তাঁকে কদিন আর
লক্ষীর মুখঝামটা খেতে
হয় না, “বখা ছেলের
গুণ্ডামির খেসারত”
দেওয়ার জন্য। কিন্তু
যাই হোক, বিপদে আপদে
কার্ত্তিকই গণেশকে
টাকাটা কড়িটা
পাঠায়।
কার্ত্তিককে পিং করল
গণেশ, “কি রে অনলাইন
যে?”
কার্ত্তিক ঃ “খরচ
কমাচ্ছি
কার্ত্তিক ঃ স্কাইপে
ভিডিও চ্যাট
কার্ত্তিক ঃ মেসের ঘরে
বসে
কার্ত্তিক ঃ উত্তেজনা
একই
কার্ত্তিক ঃ কিন্তু
খরচা কম
কার্ত্তিক ঃ এখন মাসে
দুয়েক বার বারে
ডিস্কোতে যাই ;)
কার্ত্তিক ঃ তুই কেন?
কার্ত্তিক ঃ টান?
গণেশ ঃ পয়সা নেই
গণেশ ঃ ওই আর কি!
কার্ত্তিক ঃ কত চাই?
গণেশ ঃ কিন্তু তোরও তো
কার্ত্তিক ঃ বল না কতো?
গণেশ ঃ আড়াই তিন
হাজার
কার্ত্তিক ঃ স্লিপার
ক্লাস জনতা মিল? না কি
এবার জেনারেল ডিব্বা
রুটি ঘুগনি?
কার্ত্তিক ঃ তুই আর
দেবতা হতে পারলি না :P
কার্ত্তিক ঃ শোন
বারোয়ারি ঠেঙিয়ে আমি
মমি আর বাপির রিটার্ন
কার্ত্তিক ঃ এয়ার
টিকেট, স্করপিও করে
দেব। তুই একটা
কার্ত্তিক ঃ
ম্যানেজমেন্ট স্কুলে
ভর্তি হ
কার্ত্তিক ঃ কথায়
কথায় ভালো ছেলে হয়ে
কৈলাসে বসে থাকিস না
কার্ত্তিক ঃ তোরও নিজের
এয়ার টিকিটের জোর এসে
যাবে...
গণেশ ঃ কিন্তু মা-বাবার
তো বয়স হয়েছে
কার্ত্তিক ঃ ওঁরা
যথাক্রমে মেগা আর
গাঁজায় মজে আছেন,
ভূতপ্রেত আছে :D
কার্ত্তিক ঃ জরুরী
দরকারে আমরা হাজির হব
নিমেষে
গণেশ ঃ ম্যানেজমেন্ট
তো অনেক খরচ... :}
কার্ত্তিক ঃ লক্ষী তোর
বোন। ও গ্যারেন্টার হলে
তুই লোন পাবি না ... হয়
নাকি :X
এই সময় লক্ষী জিটকে
পিং করল গণেশকে,
“কার্ত্তিকটা অনলাইন
তাই আমি ইনভিসিবল মোডে,
তারপর তোদের সব খবর
কি?”
গণেশ ঃ ভালোই। কলকাতা
থেকে কৈলাসে ফেরার
পালা।
গণেশ ঃ ভাবছি যাব না;
বি-স্কুলে যাব। লোন
কোথায় পাব বলত?
লক্ষী ঃ কাল সকালে
করুণাময়ী মেট্রো
স্টেশনের নিচে চলে আয়
দশটার মধ্যে..আমি
তোকে নিয়ে যাব
গণেশ ঃ কোথায়?
লক্ষী ঃ বি-স্কুলে,
তারপর ফাইনান্সারের
কাছে
গণেশ ঃ কিন্তু মা-বাবকে
কে দেখবে?
লক্ষী ঃ ভূতে, আগে তুই
নিজেকে দেখ, তারপর দু
বছর পর সব স্মুথ :D
লক্ষী ঃ চল টা টা। কাল
দেখা হবে।
পরিবর্তিত গণেশোপপুরাণ
৬Sanhita Mukherjee | গল্প
১২/০১/২০১২
বোকা, ন্যাকা, ফালতু, গাম্বাট, জুতো নই, ছাতা নই...... ব্লগার। খামখেয়ালে।





জনগণ যা বলেন
আপনি যা বলেন
ঠাকুর দেবতা নিয়ে খিল্লি করা বের হবে একদিন। এইসব সিপিএম টাইপ নাস্তিক লোকজনের জন্যে দেশটার উন্নতি বলে কিছু হলনি। আডাবাণীবাবুকে বলে দেব। বুঝবে।
মন্দ কি! কিন্তু গণেশ চা খাবার সময় তো ভাঁড় দেখতে পাবে না.। তখন যদি ইয়ে জায়গায় চা পড়ে যায়? তাইলে?
হো হো হা হা জব্বর
:D :D :D
একটা নাট্য রুপ দেবার ইচ্ছে থাকলো, যদি অনুমতি পাই।
বেড়ে লিখেছেন কিন্তু। দারুণ মজার। ভেরি গুড।