রেস্তোরাঁর সবুজ বিষয়ক দরজা

১২

রোহণ কুদ্দুস | কবিতা

0/5 (অরেটিত)

কফিরং জানলার শার্সিতে পরিশ্রমী মেঘ ভেসে যায় সারাদিন
শটগানের ওপর চিবুক ঠেকিয়ে বসে আছি রাস্তার ওপারে
এখনও বাতি লাল

শিকারের আক্ষরিক সংজ্ঞার তুলনায় সে মাত্র বছর ষোল
বুটিদার লাল ফ্রকের বুকে অসহিষ্ণু বাতাস মুঠো ভর্তি ওম
বিকালে স্নিগ্ধ আর কিছু মানুষের সাথে ফটকের বাইরে
ভিড় করে কবরখানা দেখে ক্ষয়ে যাওয়া ওবেলিক্স আর
রাতে সারা মহল্লার মত ভাবে আর ২ বছর পর
সে-ও শিকারী

উইন্ডচাইমে আবেশ আসে জিপারের ওপাশ থেকে মস্তিষ্ক
সাড়া দেয় কবে কারা রাস্তা পেরিয়েছে ৪-৫ লাইনের ফুরসতে

রেস্তোঁরার অন্যদিকে রোদ ঝুলে পড়েছে টিউলিপ বাগানে এখন
নাছোড় কিছু প্রজাপতির ভান করে আমরা জরিপে ব্যস্ত
ট্রিগারের স্নায়ু

রোহণ কুদ্দুস

লেখক

খাই, দাই, ঘুমোই, গপ্পো করি আর লিখি। ও হ্যাঁ, পড়িও বটে।

[প্রোফাইলের ছবিটা বিল ওয়াটারসনের থেকে ধার নেওয়া।]

[প্রোফাইলের ছবিটা বিল ওয়াটারসনের থেকে ধার নেওয়া হয়নি।]

জনগণ যা বলেন

আপনি যা বলেন

পড়তে ভালো লাগলো, কিন্তু বুঝি নি।

রোহণ, একদম নাগালের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে গেল - মাথার বেশ ওপর দিয়ে। কাজেই কি আর করা (মাথা চুলকোনো ছাড়া)।

Bimbisar মন্তব্য3 মাস আগে

ওরে ! পাগলা লেখা হচ্ছে... তোমার পাল্লায় পড়ে নতুন অনেক কিছু শিখছি...খাচ্চি কিন্তু গিলতে গেলেই গ্যাস হয়ে যাচ্ছে :-)

যদিও সব টা বুঝিনি...
তবুও দারুণ..।
এক কথায়,
অপূর্ব..

যাক, অন্ততঃ কিছু লোক এখনও আমার ধারে কাছে আছে। বিম্বিসার তাও খাচ্ছে, আমি তো দাঁতই বসাবার সাহস করতে পারছি না। তবে হ্যাঁ, পড়ে যেতে ভালোই লাগে। কিন্তু নয়া বুঝে খারাপও লাগে।

কবিতা থোড়াই না বোঝার জিনিস। সুরা পান করার সময় কি বুঝে-সুঝে পান করা হয়?

je sob loke poddo lekhe
tader dhore khnachaye rakhe...

এই কবিতাটা চাপা পড়ে গিয়েছিল। যাই হোক, ভালো লাগল। শুরুতে পুরাতনী ভাষার চেনা রোহনদা,"কফিরং জানলার শার্সিতে পরিশ্রমী মেঘ ভেসে যায় সারাদিন/"। এই পংক্তি যে নেহাৎ মুখবন্ধ তা বুঝতে পারি। এত স্বচ্ছন্দ চলন সাধারন্তঃ অস্বাভাবিক। তারপর-ই ওঠানামা, কবিতা পড়তে পড়তে কানের কাছে দুমদাম আগ্নেয়াস্ত্র শুনছি। একটা নারীমুর্তি গড়েছে কবি দু'লাইনে ভেঙে চুরে, সারা গায়ে তার রক্ত মাখা। সে নারী শিকার না শিকারী, এই দারুণ ডিলেমায় পাঠককে চুবিয়ে মজা দেখছেন কবি। আর রেস্তোঁরার ভিতর শটগানের ট্রিগারে এখনো আঙুল থেমে আছে। শুরু থেকেই ছিল, এখনো লালবাতি নেভেনি। শিকার আসে নি। কবে আসবে? পাঠকের দ্বন্দ্ব কাটলে? নাহ, কোনদিন আসবে না; রেস্তোঁরা রেস্তোঁরার জায়গায় থেকে যাবে। শটগান হাতবদল হবে মাত্র। কারন দু'বছর পর এই শিকার আবার শিকারী হবে। কি আশ্চর্য্য অথচ স্পষ্ট সমকালীন পারিপার্শ্বীক-এর ছায়া আড়ালে আড়ালে রয়েছে এ কবিতায়। অচেতন না সচেতন সংযোজন, কবি? পাঠক তো কনফিউজড রয়ে গেল। তাই সে আসলে রেস্তোঁরা, সারাদিনের পরিশ্রমী মেঘ; পরিশ্রম করতে করতে সে টের-ই পায় না, কখন শিকার ও শিকারীর পরিচয় বদলের খেলা চলে। আমার ভালো লেগেছে।

পড়ার জন্যে শুভেচ্ছা রইল। :)

হাবিজাবি যা খুশি লিখেছি। রাগ কইর না গো দাদা। ঃ)

তুমি নিজের সময় ব্যয় করে পড়েছো। তারপর নিজের মতামতও জানিয়েছো। ভালো খারাপ যাই হোক, প্রাসঙ্গিক আলোচনা পেলে কবিতালিখিয়ে হিসাবে ভালো লাগে। কারণ পাঠক পড়েছেন এবং কিছু জানিয়েছেন। এতে রাগ করার কোনও কারণ নেই।

শুভেচ্ছা জেনো।

চিচিং ফাঁক


লেখকের সমস্ত